সোমবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ - ২২:১২
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর বিরুদ্ধে হুমকি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে হুমকি

লেবাননে ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের এক বিশাল সমাবেশে হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর বিরুদ্ধে হুমকিকে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি এ অবস্থায় বিশ্বের মুসলমানদের নেতার প্রতি আনুগত্য ও সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানান।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বৈরুতের দাহিয়ায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে সংহতি প্রকাশে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম এই বক্তব্য দেন।

তিনি তাঁর ভাষণে পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা দেন, “আমরা ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী এবং ইরানের জনগণের প্রতি আমাদের অটল ও পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। মার্কিন হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মুখে আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াব।”

তিনি তাঁর সমর্থনের ভিত্তি উল্লেখ করে বলেন, “ইমাম খামেনেয়ীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত 'বেলায়াতে-এ-ফকিহ' নীতিই হলো সেই কেন্দ্রবিন্দু, যার চারপাশে সমগ্র প্রতিরক্ষা অক্ষ ঐক্যবদ্ধ। নবীর অনুপস্থিতিতে এই নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য। এটি কেবল একটি সরকারের পক্ষে সমর্থন নয়; বরং ইরানের সশস্ত্র জনগণ, তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং তাদের নির্বাচিত পথের প্রতি আস্থার প্রকাশ।”

সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণের পরবর্তী অংশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইমাম খামেনেয়ীর বিরুদ্ধে যে মৃত্যু হুমকি, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে হুমকি বলে আমরা গণ্য করি।”

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ট্রাম্প যখন 'বেলায়াতে-এ-ফকিহ'কে হুমকি দেন, তখন মুসলমানরা নিরব দর্শক হয়ে বসে থাকতে পারে না।” তিনি স্পষ্ট করেন, “ট্রাম্প বা অন্য কেউ যখন নেতাকে হুমকি দেন, তারা আসলে কোটি কোটি মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন।”

হিজবুল্লাহ নেতা ইরানের সাম্প্রতিক অস্থিরতা উল্লেখ করে বলেন, “ইরান ঐক্যের মাধ্যমেই সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতার মার্কিন-ইসরাইলি প্রকল্পকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে যোগ করেন, “ইমাম খামেনেয়ীর নেতৃত্বে ইরান দৃঢ় অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মার্কিন-ইসরাইলি শত্রুর সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিচ্ছে।”

শেখ নাইম কাসেম ইরানের আত্মরক্ষামূলক অধিকারের পক্ষেও জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “আমরা ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং স্বাধীন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের আইনসম্মত অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করছি।”

তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন মার্কিন নীতির একটি মূল্যায়ন দিয়ে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন ও মুক্ত ইরানের অস্তিত্ব সহ্য করতে পারে না, যে ইরান বিশ্বের নিপীড়িত মানুষদের জন্য একটি আদর্শ ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এই ভাষণের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইরানের সাথে তাদের কৌশলগত মৈত্রী ও প্রতিরোধ অক্ষের অবিচ্ছিন্ন ঐক্য পুনরায় ঘোষণা করেছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha